চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে নগরে শিল্পপতি মোস্তাফিজুর রহমান পরিবারের বাসভবনে গুলি ও চাঁদাবাজির মামলায় ‘সন্ত্রাসী’ সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা এর আদালত এ নির্দেশ দেন। যদিও গুলি করার পর তখন আরেক সন্ত্রাসী গ্রুপ সাজ্জাদ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা গুলি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠেছিল। ওই বাড়িতে তার ছোট ভাই শিল্পপতি ও চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক সাবেক এমপি মজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্য বসবাস করেন। আসামি সাইফুল সাবেক ছাত্রদল নেতা।
কোর্ট পুলিশের এসআই মনির হোসেন বলেন, থানা পুলিশ আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলসহ চার জনকে গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। আসামিরা বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
সাইফুল ছাড়া গ্রেপ্তার দেখানো আসামিরা হলেন- সিহাব উদ্দিন সায়মান, সুমন চন্দ্র দাস ও মাসদু রানা প্রকাশ বাইক বাবু।
চকবাজার থানার এসআই প্রকাশ রায় আদালতে আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদেশ থেকে হোয়াটসএ্যাপ মোবাইল নম্বর ০০৯১৭৩৪০৬৭৩৯৭ থেকে ফোন করে ১০ কোটি টাকা চাঁদা চায় শিল্পপতি পরিবার থেকে। তাদের কাছে ম্যাসেজ পাঠায়। এ মামলায় আসামিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। তাই তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
গত ২ জানুয়ারি সকালে শিল্পপতির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিল্পপতি মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ পরিবারের মালিকানাধীন স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। তাদেও পোশাক, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।
গুলির পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সকাল সাতটার দিকে মাইক্রোবাসে করে এসে আটজনের একটি দল মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে। তাদের মুখে মাস্ক ছিল। বাড়ির গেটে ও পেছনে গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে। চাঁদার জন্য ভয় দেখাতেই বাড়ির সামনে ও পেছনে গুলি করা হয়েছে। বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ এই ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুবাইভিত্তিক নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাসার লোকজন কাউকে বলেননি।
স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, মাস দেড়েক আগে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে টাকা দাবি করেন। বিষয়টি ওই সময় তিনি আমলে নেননি।
Leave a Reply